আমরা যারা বাঙালি মুসলমান, আমাদের জীবনে মাহে রমজানের গুরুত্ব অপরীসীম। রমজান মাসে দিনের বেলা আমরা রোজা রাখি। রাতে পড়ি তারাবি। আমাদের শৈশব আর কৈশোরে তারাবির সময়টা নিয়ে জমা হয়ে আছে বহু বর্ণিল স্মৃতি !

তারাবি নিয়ে কথা বলতেই মনে পড়ে যায় প্রিয়কবি জসীমউদ্দীনের কবিতা–
‘‘তারাবি নামাজ পড়িতে যাইবো মোল্লা বাড়িতে আজ
মেনাজদ্দীন, কলিমদ্দীন আয় তোরা করি সাজ !’’

এবছর, করোনার কারণে মসজিদে তারাবি জামাতের আকার মাত্র ১২ জনে রাখা হয়েছে। মহামারীর বাস্তবতায় এটাই সরকারি সিদ্ধান্ত।
………………………………………………………………………………
ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় বিষয়ে ফতোয়াপ্রদানের অধিকার আমার নেই। তবে, ধর্মশাস্ত্রের সাধারণ একজন শিক্ষার্থী হিসেবে তারাবি নিয়ে কিছু কথা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে করছে।

১.
তারাবি মসজিদে ছোট আকারেই হোক। মসজিদে গিয়ে ঝামেলা বাড়ানোর দরকার নেই। আমরা বরং যার-যার বাড়িতেই তারাবি পড়ি।

২.
তারাবিতে পুরো কুরআন খতম করা জরুরি নয়। কুরআনের ছোট কয়েকটি সুরা বা আয়াত দিয়েও তারাবি পড়া যায়। আমরা তাই ঘরের ভাইবেরাদর মিলে ছোট-ছোট আকারে তারাবির জামাত করতে পারি।

৩.
সুরা ফিল [আলাম তারা] থেকে সুরা নাস [কুল আউযু বিরাববিন্নাস] পর্যন্ত মুখস্থ থাকলেও খুব সহজে তারাবি পড়া যায়। সুরা তারাবি।

৪.
তারাবি পড়া সুন্নাতে মুআক্কাদা। জোহরের নামাজে ফরজের আগের চার রাকাতের মতো। তবে জামাতে তারাবি পড়া সুন্নাতে মুআক্কাদায়ে কিফায়া, মানে পুরো মহল্লায় তারাবির একটা জামাত [তিন-চারজনের হলেও] হলেই সবার পক্ষ থেকে জামাতে তারাবি পড়ার দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।

৫.
তারাবি ৮ রাকাত না ২০ রাকাত, এটা নিয়ে তর্কে না গিয়ে যার যতো রাকাত পড়তে ইচ্ছে হয় পড়ি। বিশ অথবা আট।

৬.
করোনার বাস্তবতা মেনে নিয়ে তাই আসুন, আমরা যথাসম্ভব যার-যার বাড়িতেই তারাবি পড়ি। ছোট-ছোট জামাত করে, ছোট-ছোট সুরা দিয়ে। জামাত সম্ভব না হলে একা-একাই পড়ি।

এবং
মহান মালিকের কাছে দোয়া করি, তিনি যেনো দয়া করে আমাদের আবার স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেন। আমরা যেনো মহামারী করোনার করাল গ্রাস থেকে অতিসত্বর মুক্তি পাই।

আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করার তাওফিক দান করুন। আমিন !

-আলাউদ্দিন কবির